শ্রীজাতের একগুচ্ছ কবিতা

 




বাংলা ভাষার আধুনিক যুগের কবিদের মধ্যে শ্রীজাত অন্যতম।
সম্পূর্ণ নাম শ্রীজাত বন্দোপাধ্যায়। 
জন্ম ২১ ডিসেম্বর, ১৯৭৫। জন্মস্থান : কলকাতা। 
শ্রীজাত ২০০৪ সালে উড়ন্ত সব জোকার কবিতাগ্রন্থের 
জন্য আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন।- উইকিপিডিয়া


অপেক্ষা

ভ্রু পল্লবে ডাক দিয়েছ, বেশ।
আমার কিন্তু পুরনো অভ্যেস
মিনিট দশেক দেরীতে পৌঁছনো

তোমার ঘড়ি একটু জোরেই ছোটে

আস্তে করে কামড় দিচ্ছ ঠোঁটে
ঠোঁটের নীচে থমকে আছে ব্রণ

কুড়ি মিনিট? বড্ড বাড়াবাড়ি!দৌড়ে ধরছ ফিরতিপথের গাড়ি
ফিরতিপথেই ভুল হল সময়
আমারও সব বন্ধুরা গোলমেলে
বুঝিয়েদেবে তোমায় কাছে পেলে
কেমন করে গল্প শুরু হয়!
খোলাচুলের সংজ্ঞা দিতে দিতে
সন্ধে নেমে আসবে বস্তিতে
ভাবছ তোমার অপেক্ষা সার্থক?
জানবেও না আমি ততক্ষনে
অন্ধকার চন্দনের বনে
ঘুরে মরছি, কলকাতার লোক
 

বর্ষার চিঠি

সোনা, তোমায় সাহস করে লিখছি। জানি বকবে
প্রিপারেশন হয়নি কিচ্ছু। বসছি না পার্ট টুতে
মাথার মধ্যে হাজারখানেক লাইন ঘুরছে, লাইন
এক্ষুনি খুব ইচ্ছে করছে তোমার সঙ্গে শুতে
চুল কেটে ফেলেছ? নাকি লম্বা বিনুনিটাই
এপাশ ওপাশ সময় জানায় পেন্ডুলামের মতো
দেখতে পাচ্ছি স্কুলের পথে রেলওয়ে ক্রসিং-
ব্যাগ ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছ শান্ত, অবনত

এখানে ঝড় হয়ে গেল কাল। জানলার কাচ ভেঙে
ছড়িয়ে পড়েছিল সবার নোংরা বিছানায়
তুলতে গিয়ে হাত কেটেছে। আমার না, অঞ্জনের
একেকজনের রক্ত আসে একেক ঝাপটায়

সবাই বলছে আজও নাকি দেদার হাঙ্গামা
বাসে আগুন, টিয়ার গ্যাস, দোকান ভাঙচুর
কিন্তু আমি কোনও আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি না
বৃষ্টি এসে টিনের ছাদে বাজাচ্ছে সন্তুর

ঝালা চলছে। ঘোড়া যেমন সমুদ্রে দৌড়য়
ভেতর-ভেতর পাগল, কিন্তু সংলাপে পোশাকিতুমিই উড়ান দিও, আমার ওড়ার গল্প শেষ
পালক বেচি, আমিও এখন এই শহরের পাখি

শেষ দিন: ২০০১
কোনওদিন তোকে বলাও হবে না জানি
আমি কোন-কোন সুড়ঙ্গে বেঁচে থাকি
কপ্টার থেকে ত্রাণের বদলে কারা
বিষ ছুড়েছিলকলেজে-পালানো পাখি
কোনওদিন তোকে বোঝানো যাবে না, কেন
কবিতায় আর বিশ্বাস থাকছে না
তার চেআমার নতুন চেহারা ভাল,ফুটপাত থেকে দরদাম করে কেনা

চাপিয়ে নিয়েছি। শহরের ধোঁয়াপথে
ভাঙা ভাঁড়ে লাথি মারতে-মারতে হাঁটি
চির অদৃশ্য গোলকিপারের দিকে
থুতু ছুঁড়ে দিইফিরে আসেথুতু চাটি

রোজ ভোরবেলা আয়নায় ক্রীতদাস
দাঁত মেজে যায়, বলতে পারি না কিছু
আমার শরীরে বসে থাকে সারাদিন
দুটো করে স্মৃতি খুলে দেয় মাথাপিছু

বিকেল হলেই মৃদু নার্সিংহোমভাই আর্মিতে। যুদ্ধ লাগতে পারে।
নিয়তির কাছে গরীবের প্রার্থনাসব ক্ষত যেন বোরোলীন দিয়ে সারে

কোনওদিন তোকে দেখানো যাবে না তবু
চামড়ার নীচে রেডিয়ো অ্যাকটিভিটি
অথচ মগজে অতীতের ঠোঙাওয়ালা
বিজ্ঞাপনের পাতায় খুঁজছে চিঠি

নাকচোখমুখকান দিয়ে হু-হু করে
শরীরে তখন ঈশ্বর ঢুকছেনশীতের সন্ধে। আটটা সতেরো বাজে।
কলকাতা ছেড়ে উড়ে গেছে তোর প্লেন


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ