নতুন লেখকদের স্বপ্ন থাকে একটি বই প্রকাশ করার। অথচ এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অনেক সময় লেখককে প্রতারণার শিকার হতে হয়। কেন লেখকরা প্রতারণার শিকার হন, সে ব্যাপারে জলছবি প্রকাশনের একটি নিবিড় পর্যবেক্ষণ আজ লেখকদের সামনে তুলে ধরতে চাই।
লেখকরা কেন বিড়ম্বনার শিকার ও কেন তারা প্রতারিত হন, সে ব্যাপারে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করা হলো। এগুলো যদি সচেতনভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োগ করা যায়, তাহলে আর লেখকরা প্রতারণার শিকার হবেন না।
জেনে নেয়া যাক, নতুন লেখকরা কী-কী কারণে প্রতারণার শিকার হন এবং সেটা কীভাবে এড়ানো যায়। প্রথমে আসে একটি ভালো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান খুঁজে বের করা। ভালো একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান কখনোই লেখকদের সঙ্গে প্রতারণা করবে না। একটি ভালো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান না হলে প্রতারণার শিকার হওয়ার সম্ভাবনা অবশ্যই থাকে।
এটটি ভালো প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান কীভাবে চিনবেন? চিনতে হলে এই বিষয়গুলোর দিকে লক্ষ্য করুন।
১. ভার্সুয়াল বিজ্ঞাপনে বিমোহিত না হয়ে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব অফিস আছে কিনা সেটা জানা দরকার। প্রকাশনীর নিজস্ব অফিস থাকলে সরাসরি অফিসে গিয়ে প্রকাশকের সঙ্গে বইয়ের ব্যাপারে কথা বলুন। অথবা আপনার কোনো পরিচিত লোক ওই প্রতিষ্ঠান থেকে বই প্রকাশ করেছে কিনা, করে থাকলে তার সঙ্গে কথা বলে পজেটিভ ধারণা পেলে আপনি আপনার কাজের ৫০% সেরে ফেলেছেন মনে করতে পারবেন।
২. প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানটির ওয়েব সাইট আছে কিনা, জেনে নিন। সেখানে পরিবেশিত তথ্যগুলো যাচাই করুন। তাদের সম্পাদনা প্যানেল আছে কিনা দেখুন। একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পাদনা বিভাগ থাকা অত্যন্ত জরুরি। সম্পাাদনা ছাড়া বই প্রকাশ করতে গেলে বইটিতে ভুল থাকার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।
৩, ট্রেড লাইসেন্স, ইনকাম ট্যাক্স সার্টিফিকেট আছে কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন। এগুলো না থাকলে একুশে বইমেলায় তারা স্টল বরাদ্দ পাবেন না; এমন কি ISBN-ও তারা সংগ্রহ করতে পারবেন না। ISBN ছাড়া বই প্রকাশ করলে সে বইটি বাজারজাত করা যাবে না। বই হিসাবে এটির কোনো মূল্যই নেই।
৪. একুশে বইমেলায় প্রতিষ্ঠানটি স্টল বরাদ্দ পায় কিনা জেনে নিন। বইমেলায় বই প্রদর্শন অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। বইমেলায় গিয়ে তাদের স্টলটি লক্ষ্য করুন। প্রকাশনী থেকে প্রকাশ পাওয়া ১-২ জন লেখকের সঙ্গে কথা বলুন। তাদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানুন। প্রকাশনীর বিগত বছরগুলোতে প্রকাশ হওয়া বইগুলোর কোয়ালিটি চেক করুন।




0 মন্তব্যসমূহ