Header Ads Widget

‘বড়ো’ লেখকরা পণ করেছেন নতুনদের বই কিনবেনই না!

 

নাসির আহমেদ কাবুল

[২৯১৮ সালে সালে প্রকাশিত এই লেখাটি নতুন করে পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো।]

 এ বছরও মেলায় নতুন লেখকদের প্রচুর বই প্রকাশিত হয়েছে। এসব বইয়ের মান নিয়ে অনেকে উষ্মা প্রকাশ করলেও মূলত অভিযোগটা অতটা সত্য নয়। আজকাল নতুনরাও ভালো লিখতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা প্রতিষ্ঠিতদের সমান্তরালে চলে এসেছেন। তবে প্রচার কম থাকায় তাদের খুঁজে নিতে পাঠকের দেরি হচ্ছে। তবে কিনা, প্রতিষ্ঠিত ‘বড়ো’ লেখকরা তাদেরকে কখনো চিনতে পারবেন কি না বা খুঁজে নিতে চাইবেন কি না, আমার সন্দেহ থেকেই যাবে। আমার মনে হয়েছে, ‘বড়ো’ লেখকরা পণ করে বসে আছেন তারা কখনোই নতুনদের বই কিনবেন না।  

তবে  ‘নতুনদের বই ভালো নয়’-এই অভিযোগ মানতে চান না নবীন লেখকরা। তারা তাই কিছু কিছু প্রতিষ্ঠিত লেখক ও পাঠকের প্রতি বিরক্ত। এ কারণে তারাও যেন পণ করেই বসে আছেন যে, তারা  যেহেতু নতুন লেখক, তাই তারা নতুনদের বইই কিনবেন। মেলায় কথা হচ্ছিলো নতুন লেখক আহমেদ রব্বনীর সঙ্গে। এ যাবত তার প্রায় ১০টির মতো বই প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বললেন, ‘আমরা নতুন। আমরা যদি নতুনদের বই না কি তো কে কিনবে? নতুনদের বই কিনে আমরাই নতুন লেখকদের উৎসাহিত করবো।’

কবি ও কথাসাহিত্যিক সঞ্জয় মুখার্জ্জী

কথা হচ্ছিলো সঞ্জয় মুখার্জ্জীর সঙ্গে। তিনি মানতেই চান না যে, নতুন লেখকরা খারাপ লেখেন। বরং তিনি খারাপের প্রসঙ্গে বললেন, ‘নতুন লেখকদের কোন ত্রুটি নেই। ত্রুটি হচ্ছে  প্রকাশকদের। নতুন লেখকদের বই অনেক প্রকাশকই মন দিয়ে করেন না।  তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘নতুন লেখকদের পান্ডুলিপি একটু-আধটু সম্পাদনা করে প্রকাশ করলে অনেক নতুন লেখকদের বই সিনিয়রদের খুব কাছাকাছি বলে মনে হয়। তিনি মনে করেন, বাংলা একাডেমি নতুন প্রকাশনাকে অনেকগুলো স্টল বরাদ্দ দিয়ে নতুন লেখকদেরই পৃষ্ঠপোশকতা করছেন। এ জন্য তিনি একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান ও মেলা কমিটির সদস্য সচিব জালাল আহমেদকে ধন্যবাদ জানান।

‘নতুন লেখকদের পান্ডুলিপি একটু-আধটু সম্পাদনা করে প্রকাশ করলে অনেক নতুন লেখকদের বই সিনিয়রদের খুব কাছাকাছি বলে মনে হয়। 

এবারের মেলায়ও  নতুনদের বই প্রকাশ আগের বছরের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে নতুন প্রকাশনার স্টলগুলোতে প্রতিষ্ঠিত লেখকদের বই কম। কেন কম, এ প্রশ্নের উত্তরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন তরুণ প্রকাশক নতুন লেখকদের প্রসঙ্গে বিরক্তি প্রকাশ করে বললেন, প্রতিষ্ঠিত লেখকদের বই প্রকাশ করা ব্যয়বহুল ও ঝামেলাপূর্ণ। কেন ঝামেলা পোহাতে হয় প্রতিষ্ঠিত লেখকদের বই প্রকাশ করতে, এমন  প্রশ্নের জবাবে বেশ কয়েকজন নতুন প্রকাশক বললেন, বইয়ের প্রচ্ছদ নিয়ে নতুন লেখকরা ঝামেলা করেন। একটা কভার বার বার আর্টিস্টকে দিয়ে করাতে হয় বলে বই প্রকাশে দেরি  হয়ে যায়। নতুন প্রকাশকরা আরো অভিযোগ করলেন যে, প্রতিষ্ঠিত লেখকদের বার বার প্রুফ দেখাতে হয়। এতে দেখা যায় যে, বই প্রকাশের জন্য বেশ কিছুটা সময় চলে যায়।


এদিকে আস্তে আস্তে জমে উঠছে বইমেলা। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে অর্থাৎ শুক্রবার থেকে মেলায় লোকসমাগম  বেড়েছে। বই বিক্রির পরিমাণও বাড়ছে দিনে দিনে। আশা করা যাচ্ছে আজ পহেলা ফাল্গুনের দিনে বইমেলা আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে। তরুণ-তরুণীদের বাসন্তী পোশাকে রঙিন হয়ে উঠবে বইমেলা। 

মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা সংস্থাগুলো যেন এই দিনটির জন্যও অপেক্ষা করে আছেন। তারা মনে করছেন পহেলা ফাল্গুন থেকে মেলায় কেনাকাটা বাড়বে। আজ বৃহস্পতিবার। আগামী দুইদিন শুক্র ও শনিবার মেলায় ক্রেতাদের ঢল নামবে।

১৩-০২-২০১৮

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ