আরিফ নজরুল
মাটি যখন প্রথম জল ছোঁয়, আকাশ নিঃশ্বাস ফেলে এক গোপন প্রার্থনায়
বৃষ্টি নামে না—নেমে আসে কোনো প্রাচীন দেবীর জলভেজা আঁচল
গন্ধ নয়, যেন মৃত পাণ্ডুলিপির ভেতর থেকে জেগে ওঠে শব্দহীন ইতিহাস
যেখানে পাথরের বুকে খোদাই ছিল কৃষ্ণপক্ষের গান।
এই সোঁদা গন্ধ—ভূপৃষ্ঠের স্মৃতি, নিঃশেষিত সৃষ্টির প্রতিধ্বনি
সেই গন্ধে পাখির পালক মাটিতে গড়িয়ে যায়, ফুল হারায় রঙ
পেট্রেকর নয়, এ যেন পৃথিবী নামক মিথের শ্বাসপ্রশ্বাসের ছায়া
যেন নিষিদ্ধ বাগানের ঈশ্বরী, জল হাতে, ধূলার জাদু ছড়িয়ে দেয়।
গাছেরা স্তব্ধ হয়ে শোনে, মাটির ভেতরে বীজেরা হেঁটে যায় অজানা দিকে,
বৃষ্টিধারা ছুঁয়ে গেলে শব্দেরা হয়ে ওঠে কাদায় লেপ্টে থাকা নৈঃশব্দ্য
আহা, এই গন্ধ—এক জন্মান্তরের প্রতীক্ষা, যেখানে প্রলয়েরও আছে স্নেহ!
পায়ের তলায় ধরা পড়ে সময়ের গোপন হৃদস্পন্দন।
যেন আদি নারী গর্ভবতী হয় আবার, ঝড়ে ভেজা কুমারী কুমারিকা
মাটি চেনে সেই তৃষ্ণা—যা জল নয়, বৃষ্টি নয়, বরং অন্ধকারের গন্ধ
এক পশলা বৃষ্টি, আর এক পলক গন্ধ—সারা মানবসভ্যতার কবিতা হয়ে ওঠে
এই পেট্রেকরই আমাদের আদি গ্রন্থ, যা লিখে রেখেছে কেবল বৃষ্টি ও মাটি।
1 মন্তব্যসমূহ
“মাটি যখন প্রথম জল ছোঁয়, আকাশ নিঃশ্বাস ফেলে এক গোপন প্রার্থনায়
উত্তরমুছুনবৃষ্টি নামে না—নেমে আসে কোনো প্রাচীন দেবীর জলভেজা আঁচল
গন্ধ নয়, যেন মৃত পাণ্ডুলিপির ভেতর থেকে জেগে ওঠে শব্দহীন ইতিহাস
যেখানে পাথরের বুকে খোদাই ছিল কৃষ্ণপক্ষের গান।”
আরিফ নজরুলের কবিতার ভক্ত আমি। এই কবিতাটি অনন্য সন্দেহ নেই। শুরুতেই অদ্ভুত নৈপুর্ণ দেখিয়েছেন তিনি।