এবি ছিদ্দিক-এর পাঁচটি কবিতা


 সোনার মুদ্রা

দিনান্তে আমার সামনে বায়না রাখে একটা ঋণের ফর্দ

আমি মোবাইল ফোনের বাটন চাঁপতে চাঁপতে ভাবি...


আমি কি নমানুষ হতে অর্ধ মানুষও হতে পারবো না! 


সেই কবে...

এক সাগর পিপাসা নিয়ে চলেছি কচ্ছপ গতিতে...

মুদ্রাদোষ নিয়ে ঋণ শোধে.. সোনার মুদ্রা কোথায় পাই! 


তবু খরগোশ দৌড় দেখি...

আর শব্দের সাথে শব্দের ঘষাঘষি খেলা করি।


যদি কোনদিন মুদ্রাদোষ থেকে সোনার মুদ্রা হয়....

সেদিন আমিও পেয়ে যাবো ঋণ শোধে সোনার মুদ্রা।


ছুঁয়ে দেখ শরীর 

জোড়াতালি শব্দগুলো আজকাল -

পঙক্তিতে বসতে দারুণ বেসামাল!

মানুষ মরে গেলে -

যথারীতি মাটি কিম্বা চিতায় সাজায়

চল - আমরা সংসার সাজাই

সহস্র  আর্তনাদ ফুঁড়ে

গুপ্তবর্ণে গ্রন্থিত শব্দসমূহ আমাদের আঙিনায়

আজো প্রেমের চারাগাছ...

এই সময়ে কাঠ- কয়লা পুড়িয়ে চল নির্মাণ করি

অনাগত ভবিষ্যৎ

ছুঁয়ে দেখ শরীর - আত্মার অস্তিত্ব খুঁজে পাবে না!

ছুঁয়ে দেখ হৃদয় ... বিজয় নিশ্চিত হবে।


বিত্তহীন কুমারি রাত

দীর্ঘ রাত শেষে ঘুমিয়ে আছে ক্লান্ত ট্রেন

আন্তঃনগর যাত্রীরা তখনো জীবন খুঁজে

হাঁকডাকে জাগ্রত হয় কালের দাঁড়কাক

তবু শেষ হয় না বিত্তহীন কুমারি রাত!


যুগযুগান্তর যে বিনোদিনী ভাত চেয়েছে কেবল

তার কাছে ভাদ্রের পূর্ণিমা ধোঁয়াওড়া কষ্ট!

দেহজ সুখে শরীর ঠাণ্ডা হলেও -

ফেরারি হৃদয়ে আগুন জ্বলে মিটিমিটি!


লুকানো অভিমান

কারো কিছু কথা থাকে ভেতরে তোলপাড়

শুনানো যা সহজ নয়,লেখাটাও জ্বালার।


হৃদয়ের গহীনে স্বকীয় হাহাকার নিত্য শুনে

তবু হায় জীবনের ধারাপাত নামতা গুনে!


অতীত চোখ তুলে মেকি এই ভালো থাকায়

বৃক্ষ পাঠ সারা দেয় জমে থাকা এ ব্যথায়।


সব মানুষেরই থাকে কিছু লুকানো অভিমান

হয়তো বা লেখা হয় না কবিতা কিম্বা আখ্যান।


যেমন ভালোবাসা আর বাসা কানের দুল নয়

লোকে যারে সোহাগে সোনায় সোহাগা কয়!


একটি রোদ্দুর বিকেল চাই

ঘৃণার আস্তরে ঢেকে গেছে রঙচটা জীবন

তবু একটি শুদ্ধতম রোদ্দুর বিকেল

সদ্য ফোটা গোলাপ।


কাজল চোখের নন্দিত দৃষ্টি-

গ্রীসের এক ঝলক রোদ্দুরে বেলাভূমি

ঝিমিয়ে পড়া প্রহরগুলোও

প্রচণ্ড শীতে উষ্ণ চাদর হয়।


ওই আটপৌরে দেয়ালে একান্তে হাসে মোনালিসা

ওই বিশুদ্ধ হাসি-

সহস্র বছর বেঁচে থাকার উত্তম উপকরণ!

কাঠখোট্টা জীবনও অনিঃশেষে অনঙ্গ চত্বর।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ