সম্পাদকীয়: উৎসবের রঙে নবপ্রাণের স্পন্দন ও আগামীর অঙ্গীকার

 নাসির আহমেদ কাবুল


কালচক্রের আবর্তনে জীর্ণ পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে বাঙালির আঙিনায় আবার এসেছে নববর্ষ—পহেলা বৈশাখ। চৈত্র সংক্রান্তির রুক্ষতা ধুয়ে মুছে প্রকৃতি এখন সেজেছে নতুনের আবাহনে। পহেলা বৈশাখ কেবল একটি পঞ্জিকার পাতা পরিবর্তন নয়; এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং প্রাণের উৎসবের এক মহামিলন মেলা।
আমাদের যান্ত্রিক জীবনে যখন ক্লান্তি আর একঘেয়েমি জেঁকে বসে, তখন বৈশাখ আসে নতুনের কেতন উড়িয়ে। হালখাতার লাল মলাট যেমন নতুন করে শুরু করার প্রেরণা দেয়, তেমনি মঙ্গল শোভাযাত্রার বর্ণিল আয়োজন আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা এক অজেয় সাহসী জাতি। এই উৎসবের মূলে রয়েছে ভ্রাতৃত্ব আর সহমর্মিতা—যা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল বাঙালিকে এক সুতোয় গেঁথে রাখে।
'আজ আগামী' সব সময় সাহিত্যের মধ্য দিয়ে আগামীর স্বপ্ন বুনতে চায়। এবারের নববর্ষে আমাদের প্রত্যাশা—সাহিত্যের শক্তি দিয়ে আমরা সমাজের সকল অন্ধকার ও কূপমণ্ডূকতা দূর করব। বর্তমানের অস্থির সময়ে কবিতা, গল্প আর গানের মধ্য দিয়ে মানবিকতার জয়গান গাওয়াটাই হোক আমাদের মূল লক্ষ্য।
আমাদের দেশের প্রবীণ ও নবীন সকল লেখক, পাঠক এবং শুভানুধ্যায়ীদের জানাই শুভ নববর্ষের আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। জীর্ণ যা কিছু তা ঝরে যাক, আগামীর প্রতিটি দিন হয়ে উঠুক সৃজনশীল ও প্রাণবন্ত।
নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল আনন্দ ও সমৃদ্ধি।
শুভ নববর্ষ ১৪৩৩!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

2 মন্তব্যসমূহ